মাতৃভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন : প্রসঙ্গ দিনাজপুর

স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভাষা আন্দোলন ছিল প্রথম মাইল ফলক। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলন ছিল পাকিস্তানী শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সংঘটিত প্রথম প্রতিরোধ আন্দোলন। দ্বিজাতিতত্ত্বের খোলসে আর তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবতায় সৃষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রে ম...

Full description

Saved in:
Bibliographic Details
Main Author: আক্তার, মোছাঃ সুমনা
Format: Online
Language:English
Published: Sage Harvard Style G| 2025
Online Access:http://journals.juniv.edu/index.php/jurpc/article/view/373
Tags: Add Tag
No Tags, Be the first to tag this record!
Description
Summary:স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভাষা আন্দোলন ছিল প্রথম মাইল ফলক। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলন ছিল পাকিস্তানী শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সংঘটিত প্রথম প্রতিরোধ আন্দোলন। দ্বিজাতিতত্ত্বের খোলসে আর তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবতায় সৃষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রে মুসলিম লীগ সরকার এবং তাদের তল্পিবাহকদের ধর্মাচ্ছন্ন, গোঁড়া ও পশ্চাদমুখী চিন্তা-চেতনার বিপরীতে অসাম্প্রদায়িক, উদার এবং প্রগতিশীল চেতনার ধারার উন্মেষ ও জাগরণ ঘটিয়ে ভাষা-আন্দোলন সৃষ্টি করে এক নব-উদ্দীপনা। এর মাধ্যমে পূর্ব বাংলার সচেতন ছাত্রজনতা যে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয় তা পরবর্তী আন্দোলনসংগ্রামের মাধ্যমে তাদের পৌঁছে দেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাঙ্খিত লক্ষ্যে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত প্রথমে সচেতন বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক মহলে ঘটলেও পরে তা পূর্ব বাংলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্দোলন-সংগ্রামের উর্বর ভূমি নামে খ্যাত দিনাজপুরেও তার প্রভাব পড়ে ভীষণ ভাবে। এতে কৃষক নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশসহ প্রবীণ রাজনীতিবদিগণ যেমন অবদান রাখেন তেমনি ছাত্র ও যুবনেতা মোহাম্মদ দবিরুল ইসলাম, নূরল হুদা মির্জা ছোটি সহ অনেক তরুণ নেতা-কর্মী পালন করে ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ভাষা আন্দোলন প্রথম দিকে দিনাজপুর শহরের ছাত্র যুবক, প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বায়ান্নতে শহর- গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে প্রধানত দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ও বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে এবং পরবর্তীকালে ১৯৫২’র ভাষা-আন্দোলন দিনাজপুরের মহকুমা ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় সহ বিভিন্ন থানার গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। ভাষা-আন্দোলনে দিনাজপুরের ভূমিকা ছিল সুসংগঠিত এবং আঞ্চলিক জেলা শহর থেকে অনেকটা অগ্রগামী। এর অন্যতম কারণ ছিল ঢাকা কেন্দ্রিক আন্দোলনের সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে দিনাজপুরের ছাত্রনেতাদের নেতৃত্ব প্রদান,যারা ঢাকা ও দিনাজপুরের ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন